| বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯%, শিক্ষা বাজেট জিডিপির ০.৮%

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-06-2026 ইং
  • 7320 বার পঠিত
পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯%, শিক্ষা বাজেট জিডিপির ০.৮%
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯%

বেলুচিস্তানের ৪৭% মানুষই দরিদ্র, টয়লেট সুবিধা নেই ৯৯% স্কুলে; পাকিস্তানের হাড়জিরজিরে চিত্র প্রকাশ

 বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভেঙে পড়েছে পাকিস্তানের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। দেশটিতে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে এখন ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির (Gross Domestic Product) মাত্র ০.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ অর্থবছরেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দের এই হার ছিল জিডিপির ১.৫ শতাংশ।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অফিশিয়াল নথি ‘পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬’ (Pakistan Economic Survey 2025-26)-এর সর্বশেষ সংস্করণে দেশটির এমন দেউলিয়া ও ভঙ্গুর চিত্র উঠে এসেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ (Geo News) এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

গ্রামে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক, বেড়েছে বৈষম্য

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাকিস্তানে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, যা বিগত কয়েক বছরে লাফিয়ে বেড়ে বর্তমানের এই রেকর্ড অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বহু মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন, যাকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

শহরাঞ্চলের তুলনায় দেশটির গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক ও শোচনীয় রূপ নিয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলের দারিদ্র্যের হার পূর্বের ২৮.২ শতাংশ থেকে এক ধাক্কায় বেড়ে এখন ৩৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলেও এই হার ১১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.৪ শতাংশে ঠেকেছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দেশটিতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার চরম আয় বৈষম্যও জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক পৃথক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বর্তমান যে নড়বড়ে অর্থনৈতিক অবস্থা, তাতে সামনে নতুন কোনো বৈশ্বিক বাহ্যিক সংকট বা মধ্যপ্রাচ্যসহ ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং আরও লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়বেন।

প্রদেশভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র (বেলুচিস্তান শীর্ষে)

পাকিস্তানের প্রদেশভিত্তিক হিসাবেও সব অঞ্চলেই সমানতালে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মতোই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে অবহেলিত বেলুচিস্তানে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি—সংখ্যার হিসাবে যা ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ এই প্রদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষই দরিদ্র।

  • বেলুচিস্তান: ৪৭ শতাংশ

  • খাইবার পাখতুনখোয়া: ৩৫.৩ শতাংশ

  • সিন্ধ: ৩২.৬ শতাংশ

  • পাঞ্জাব: ২৩.৩ শতাংশ

শিক্ষা বাজেট কমেছে ২৩ শতাংশ, ধুঁকছে অবকাঠামো

পাকিস্তানের এবারের সমীক্ষায় দেশটির শিক্ষা খাতের যে করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এক কথায় চোখ কপালে তোলার মতো। তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে সরকারের মোট বার্ষিক ব্যয় কমে ২০২৫ অর্থবছরে মাত্র ৯৬২ বিলিয়ন রুপিতে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম! বিশেষ করে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুই প্রদেশ পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়াতে প্রাদেশিক শিক্ষা বাজেট শিক্ষানীতি ভেঙে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।

শিক্ষা বাজেট কমানোর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির স্কুলগুলোর অবকাঠামোতে। পুরো পাকিস্তানের মাত্র ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা রয়েছে। আর বেলুচিস্তানের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, সেখানকার মাত্র ২১ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ আছে এবং পুরো প্রদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টয়লেট বা শৌচাগার সুবিধা নেই বললেই চলে (মাত্র ০.৩ শতাংশ স্কুলে টয়লেট আছে)।

সার্ভেতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার মাত্র ৬৩ শতাংশ, যার মধ্যে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার আরও পিছিয়ে—মাত্র ৫৪ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে পাকিস্তানের এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) শিশু স্কুলের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারেনি, তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেই রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মহলের বরাত দিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষা খাতে জরুরি ও টেকসই সংস্কার এবং নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ করা না হলে পাকিস্তানের মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency